বাংলাদেশে যেমন ‘মাজলিসু রুইয়াতিল হিলাল (আন্তর্জাতিক)’ নামক চাঁদ দেখা কমিটি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ দেখা কমিটি রয়েছে, সউদীতে কি সেরকম চাঁদ দেখা কমিটি নেই?
বাংলাদেশে যেমন ‘মাজলিসু রুইয়াতিল হিলাল (আন্তর্জাতিক)’ নামক চাঁদ দেখা কমিটি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ দেখা কমিটি রয়েছে, সউদীতে কি সেরকম চাঁদ দেখা কমিটি নেই?
আপনারা যারা চাঁদ নিয়ে কাজ করেন প্রায়শই বলে যাচ্ছেন,লিখে যাচ্ছেন সউদি আরব চাঁদ না দেখে মাস শুরু করে। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য কথা? আরবী মাস শুরুর পদ্ধতিতো সহজ।
অমাবস্যার পর, আরবী মাসের ২৯ তারিখে আমরা যখন আকাশে বাঁকা চাঁদ তালাশ করি তা কখনো দেখতে পাই কখনো পাইনা। বাঁকা চাঁদ কখন দেখা যেতে পারে বা কখন দেখা যাবেনা তার উপর অনেক গবেষণা হয়েছে যা ইতোপূর্বে আমরা আমাদের অন্যান্য বইগুলোতে আলোচনা করেছি। কিন্তু অনেক সময় বাঁকা চাঁদ দেখতে পাবার আকৃতিতে আসার পরেও আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়না।
এই বিষয়টি আমরা প্রমাণ করবো সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে, আর সম্মানিত শরীয়ত উনার বিষয়টি স্পস্ট করার লক্ষ্যে বিজ্ঞানের আলোকে শুরুতে কিছুটা আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। বাজারে পাওয়া অনেক বইতে চাঁদ দেখা নিয়ে যখন বিজ্ঞান টেনে নিয়ে আসে তখন নীচের যুক্তিগুলো উপস্থাপন করে। চাঁদের দৃশ্যমান হওয়াটা পৃথিবীর চারপাশে প্রতি ঘন্টায় এই ডিগ্রী বাড়ার উপর নির্ভরশীল নয়। সাথে রয়েছে আরও অনেক ফ্যাক্টর।
২৯ যিলক্বদ শরীফ ১৪৪২ হিজরী, ১২ ছানী ১৩৮৯ শামসী (১১ জুলাই ২০২১), আহাদ(রবিবার) দিবাগত সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা গেছে।
২৯ শাওওয়াল শরীফ ১৪৪২ হিজরী, ১২ আউয়াল ১৩৮৯ শামসী সন, ১১ জুন ২০২১, জুমুয়াবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যায়নি।
২৯ রমাদ্বান শরীফ ১৪৪২ হিজরী, ১৩ ছানী আ’শার ১৩৮৮ শামসী সন, ১২ মে ২০২১, আরবিয়া (বুধবার) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি। আগামী ১৪মে, ২০২১ হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
২৯ শা’বান শরীফ ১৪৪২ হিজরী, ১৪ হাদি আ’শার ১৩৮৮ শামসী (১৩ এপ্রিল, ২০২১), ছুলাছা (মঙ্গলবার), দিবাগত সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা গেছে।
৩০শে সেপ্টেম্বর ২০০৮, মঙ্গলবার যেদিন সউদী আরব ঈদ পালন করেছে, চাঁদের প্রকৃত হিসাবে তা ছিল ২৯শে রমাদ্বান। সউদী সরকার ২৮শে রমাদ্বানের দিন চাঁদ দেখার মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ২৯ এবং ৩০শে রমাদ্বানের দু’টি রোযা নষ্ট করে রমাদ্বান শরীফ-এ ঈদ পালন করেছে।
হিসাবের গরমিলের কারণে ত্রিশতম দিনেও সউদী আরবে রমাদ্বান মাসের চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি। চাঁদ না দেখেই সউদী আরব রমাদ্বান শরীফ শুরু করেছে। চাঁদ দেখে শুরু হলে শা’বান মাসটি ৩১ দিনে পূর্ণ হত। মনগড়াভাবে মাস শুরু করা থেকে সউদী সরকারের খালিছ ইস্তিগফার করা উচিত।
সারাবিশ্বে যারা একই দিনে রোযা-ঈদসহ অন্যান্য ইবাদত পালন করার কথা বলে তাদের কথা সম্পূর্ণ ভুল। ভূগোলের সামান্যতম জ্ঞানও তাদের নেই। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের সময়ের পার্থক্য হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন দিন, তখন অন্য প্রান্তে পূর্ব বা পরের দিন অথবা রাত। কাজেই সেখানে তখন চাঁদ দেখার প্রশ্নই আসে না। তাহলে কি করে একদিনে সারাবিশ্বে রোযা রাখা বা ঈদ করা যেতে পারে? এটা মূলতঃ নেহায়েত অজ্ঞতা ও জিহালতপূর্ণ কথা।