আন্তর্জাতিক মাজলিসু রুইয়াতিল হিলাল
৩৭ ছফর শরীফ ১৪৪৪ হিজরী

দর্শকঃ  আপনারা যারা চাঁদ নিয়ে কাজ করেন প্রায়শই বলে যাচ্ছেন,লিখে যাচ্ছেন সউদি আরব চাঁদ না দেখে মাস শুরু করে। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য কথা? আরবী মাস শুরুর পদ্ধতিতো সহজ।

চাঁদ গবেষকঃ আমারোতো সেই কথা । সম্মানিত শরীয়ত এত সহজ পদ্ধতি দিতে কেন জটিল ভাবে সউদি আরব  মাস গণনা করে যাচ্ছে? মাসের ২৯ তম তারিখে চাঁদ খুজতে হবে। দেখা গেলে মাস শুরু হবে আর না দেখা গেলে মাস ৩০ দিনে গুনতে হবে। এইতো, এর চেয়ে বেশী কিছু নয়।

দর্শকঃ কিন্তু সউদী আরব সঠিক ভাবে মাস গণনা করছে না এটা আপনারা কিভাবে বোঝেন?

চাঁদ গবেষকঃ বোঝার অনেক পদ্ধতি আছে। কয়েকটি পদ্ধতি বোঝার জন্য দরকার মহাকাশ বিজ্ঞানের জ্ঞান । সেদিকে না গিয়ে সাধারনভাবেই বোঝাই।

১) সউদী আরব প্রতি বছর,প্রতি মাসে বাংলাদেশের পূর্বে মাস শুরু করে এটা কখনো সম্ভব নয়।

২) সউদী আরব যেদিন চাঁদ দেখার দাবী করে, সেদিন তার অনেক পশ্চিমে  মরক্কো, স্পেন, আমেরিকা, কানাডাতেও  চাঁদ দেখা যায় না। অথচ পশ্চিমে আরো স্পস্ট দেখা যাবার কথা।

৩) সউদী আরব অনেক মাসের ২৯ তারিখে চাঁদ দেখার দাবী করে অথচ ৩০ তম দিনে আকাশ পরিস্কার থাকলেও চাঁদ দেখা যায়না । এর অর্থ ২৯ তম দিনেও চাঁদ দেখা যায়না।

দর্শকঃ বুজলাম তারা সঠিকভাবে মাস শুরু করেনা কিন্তু তাতে ওদের কি লাভ? আর আমাদেরই বা কি ক্ষতি।

চাঁদ গবেষকঃ ক্ষতি শুধু আমাদের না, ক্ষতি বিশ্বের অগনিত মুসলমানের। কারন কাবা শরীফ এবং মদীনা শরীফ কেবল সউদী আরবেই রয়েছে ফলে সেখানে মাস গণনা সঠিক না হলে মানুষের হজ্জ সহ অনেক আমল নস্ট হয়ে যাবে।

দর্শকঃ আমাদের আমল কেন নস্ট হবে? আমরাতো তারিখ ঘোষণা করিনি । সউদী আরব দায়ী হবে?

চাঁদ গবেষকঃ চাঁদ নিয়ে সউদী আরবের বিভ্রান্তি জানার কারনে প্রতিবাদ করতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে, সউদি আরবকে অন্ধ অনুকরণ বাদ দিতে হবে। সউদি আরবে চাঁদ দেখার সঠিক রিপোর্ট পরিবেশন করতে হবে। এসব না করলে রক্ষা নাই। কারণ যে জেনেও নিরবতা অবলম্বন করে সে বোবা শয়তানে পরিণত হবে।