আন্তর্জাতিক মজলিসু রুইয়াতিল হিলাল
৭ রমাদ্বান শরীফ ১৪৪২ হিজরী

আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ এ ইরশাদ করেন, “আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা এনেছেন তা আঁকড়িয়ে ধর আর যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক।” হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “২৯তম দিনে চাঁদ না দেখা গেলে মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ কর।” হিসাবের গরমিলের কারণে ত্রিশতম দিনেও সউদী আরবে রমাদ্বান মাসের চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি। চাঁদ না দেখেই সউদী আরব রমাদ্বান শরীফ শুরু করেছে। চাঁদ দেখে শুরু হলে শা’বান মাসটি ৩১ দিনে পূর্ণ হত। মনগড়াভাবে মাস শুরু করা থেকে সউদী সরকারের খালিছ ইস্তিগফার করা উচিত।
-সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম (ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ)

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তিনিই সেই মহান সত্ত্বা যিনি বানিয়েছেন সূর্যকে উজ্জ্বল আলোকময় আর চাঁদকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণ কারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারণ করেছেন এর জন্য মনযিলসমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব।” সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এই আয়াত শরীফ-এ অনেকগুলো বিষয়ের সাথে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব রক্ষার সাথে চাঁদের মনযিলের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ চাঁদের মনযিলের অবস্থা না দেখে কখনো চাঁদের মাসের হিসাব রক্ষা করা সম্ভব নয়। সুতরাং কেউ যদি চাঁদের মনযিলের বিষয়টিকে উপেক্ষা করে, চাঁদ না দেখে মনগড়া তারিখে আরবী মাস শুরু করে তাহলে অবশ্যই তা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিভিন্ন আরবী মাসে মুসলমানদের যে আমলের বিষয়টি রয়েছে তা চাঁদ দেখে সঠিক তারিখে মাস শুরু হওয়ার উপর নির্ভরশীল। অথচ সউদী সরকার কুরআন মজীদে ইরশাদকৃত চাঁদের এই মনযিলসমূহের বিষয়টি সঠিক অনুধাবন করতে না পেরে অথবা ইহুদীদের চাপানো কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে আরবী মাসের ২৯তম দিনের সূর্যাস্তেরা সময় চাঁদের যে মনযিল প্রকাশ পায় (বাঁকা চাঁদ) তা উপেক্ষা করে আগাম একটি আরবী মাসের ক্যালেন্ডার রচনা করে থাকে। অথচ নিশ্চিতভাবে একটি আগাম ক্যালেন্ডার রচনা করা শরীয়ত অনুযায়ী সম্ভব নয়। বড়জোড় একটা সম্ভাব্য ক্যালেন্ডার রচনা করা যেতে পারে। উম্মুল কুরার রচিত একটি মনগড়া ক্যালেন্ডারের কারণে প্রতি বছরের প্রায় প্রতিটি মাসে সউদী আরবে আরবী মাস সঠিক তারিখে শুরু হচ্ছে না।

উদাহরণ হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, গত শা’বান মাসটি সউদী আরবে শুরু হয়েছিল চাঁদ না দেখে অর্থাৎ তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। ফলে, সউদী আরবের মুসলমানগণ সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মুসলমানগণের পবিত্র লাইলাতুম মুবারাকা বা শবে বরাত নছীব হয়নি। সউদী আরব এর হিসাব অনুযায়ী ৩০শে আগস্ট, শনিবার ছিল তাদের ২৯শে শা’বান আর প্রকৃত হিসাবে ছিল ২৮শে শা’বান এবং অমাবস্যার দিন। অমাবস্যার কারণে সেদিন চাঁদ দেখা যাওয়া ছিল অসম্ভব। অতঃপর তাদের ৩০শে শা’বান (প্রকৃত হিসাবে যা কিনা ২৯শে শা’বান) ছিল ৩১শে আগস্ট রোববার। সেদিনও সউদী আরবের কোথাও চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি। আসলে ৩১শে আগস্ট রোববার সন্ধ্যায় সউদী আরবে চাঁদ খালি চোখে দেখা যাবার আকৃতিতেই আসেনি। ফলে সউদী আরবের মদীনা মুনাওওয়ারা হতে ৩৫ জন এবং অন্যান্য স্থান থেকে চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হয় কিন্তু চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি।

সউদী আরবের উচিত ছিল পহেলা সেপ্টেম্বর চাঁদ দেখে ২রা সেপ্টেম্বর থেকে পহেলা রমাদ্বান শরীফ শুরু করা। কিন্তু শা’বান মাস চাঁদ না দেখে একদিন পূর্বে শুরু করায় তারা পহেলা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেনি। কেননা এতে প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছিল যে সউদী আরবে শা’বান মাসটি ৩১ দিনে পূর্ণ হতে যাচ্ছে। আর সেই ভয়ে সউদী আরবের ছয়টি চাঁদ দেখা কমিটির রিপোর্ট উপেক্ষা করে, চাঁদ না দেখেই, গরমিল করে শা’বান মাসটি ৩০ দিনে পূর্ণ করে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকেই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ শুরু করেছে। এতে সউদী আরবের সকল মুসলমানগণসহ যে সকল দেশ তাদের অনুসরণ করেছে তাদের একটি ফরয রোযা নষ্ট হয়েছে যা আদায় করা ফরযের অন্তর্ভূক্ত। ইহুদীদের মদদপুষ্ট এ সকল বিভ্রান্ত শাসকগোষ্ঠী চায় মাস সঠিক তারিখে শুরু না করে মুসলমানদেরকে শবে বরাত থেকে বঞ্চিত করতে, রমাদ্বান মাস সঠিক তারিখে শুরু না করে ফরয রোযা এবং লাইলাতুল ক্বদরের আমল থেকে ফিরিয়ে রাখতে এবং পরিশেষে শাওওয়াল মাসের তারিখ গরমিল করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করতে।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, রমাদ্বান মাস শুরু নিয়ে ভুলের সীমা অতিক্রম করেছে আরও দু’টো দেশ লিবিয়া এবং নাইজেরিয়া। এ দু’টো দেশ ৩০শে আগস্ট শনিবার চাঁদ দেখার দাবি করে ৩১শে আগস্ট থেকে পহেলা রমাদ্বান শরীফ শুরু করেছে অর্থাৎ এ দু’টো দেশের মুসলমানের দু’টো রোযা নষ্ট হয়েছে।

চাঁদের তারিখ ঘোষণায় এবার বিস্ময়কর ঘটনা ঘটিয়েছে অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া। ৩১ আগস্ট, রোববার চাঁদ প্রথমে খালি চোখে দেখার আকৃতিতে আসে দক্ষিণ আফ্রিকায়। অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় চাঁদ খালি চোখে দেখা ছিল একেবারেই অসম্ভব। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও অত্যন্ত শক্তিশালী বাইনোকুলারের সাহায্যে দেখা যাওয়ার কিছুটা সম্ভাবনা ছিল। অথচ উত্তর অস্ট্রেলিয়ার ডারউনে খালি চোখে চাঁদ দেখার দাবি করা হয় আর এ মতের পক্ষে সাধারণ মানুষ সমর্থন না দিলেও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ১০ জন তথাকথিত মাওলানা সমর্থন দেয় এবং সে অনুযায়ী পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে পহেলা রমাদ্বান শুরু হয়। অথচ অস্ট্রেলিয়ার আল-গাযযালী সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং চাঁদ গবেষক জনাব আফরোজ আলী জানান, অস্ট্রেলিয়ার সকল দিক পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। এ ছাড়াও চাঁদ দেখতে পাবার জন্য ন্যূনতম যতগুলো শর্ত পূরণ হবার কথা ছিল তার কোনটাই পূরণ হয়নি বলে তিনি এই চাঁদ দেখার রিপোর্টকে উপেক্ষা করে ২রা সেপ্টেম্বর থেকে পহেলা রমাদ্বান পালনের জন্য আহবান করেন। একইভাবে ইন্দোনেশিয়ার একজন অ্যাস্ট্রোনমার আরকানুদ্দিন মুতাওয়া তার সহযোগীদের নিয়ে চাঁদ দেখতে না পেলেও ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় জাতীয় প্রচার মাধ্যমে চাঁদ দেখতে পাবার খবর প্রচার করে। অথচ সে চাঁদ খালি চোখে না বাইনোকুলারের সাহায্যে দেখা হয়েছিলো তা উপেক্ষা করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় চাঁদ দেখার দাবি করলেও মালয়েশিয়াতে অত্যন্ত শক্তিশালী বাইনোকুলার দিয়েও চাঁদ দেখা যায়নি।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, একটি বিষয় স্পষ্ট যে, পৃথিবীর সকল মুসলিম দেশে পরিকল্পিতভাবে চাঁদের তারিখ ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। হাদীছ শরীফ-এ চাঁদ দেখে মাস শুরু করার অত্যন্ত সহজ একটি পদ্ধতি থাকার পরেও কেন এত বিভ্রান্তি? এর কারণ হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ইহুদী-নাছারা এবং তাদের মদদপুষ্ট উলামায়ে ‘ছূ’দের দায়ী করেন। তিনি এ প্রসঙ্গে আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত রুইয়াতে হিলাল মজলিশের আন্তর্জাতিক কমিটির কার্যক্রম আরও সচেতনভাবে করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।