আন্তর্জাতিক মাজলিসু রুইয়াতিল হিলাল
১৫ শাওওয়াল শরীফ ১৪৪৩ হিজরী

দর্শকঃ সউদী আরব তাদের চাঁদ দেখার প্রথম পদ্ধতি কেন বাদ দিল আর দ্বিতীয় পদ্ধতিই বা কেন প্রয়োগ করলো এই বিষয় নিয়ে আমার জানার আগ্রহ ছিল কিন্তু সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে কেউ একজন বাংলাদেশের প্রধামন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে সউদী আরবের সাথে একই দিনে ঈদ বা রোজা পালন করার জন্য । এ ব্যাপারে আপনার কাছ থেকে কিছু শুনতে চাই।

চাঁদ গবেষকঃ বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে । জানা গেছে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সুরাহা করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে পাঠিয়েছিলেন । আর ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফতোয়া চেয়েছিলেন কয়েকটি কওমি মাদ্রাসার কাছে। তবে কেউ এ বিষয়ে সম্মতি দেয়নি। অর্থাৎ সউদি আরবের সাথে বাংলাদেশের ঈদ বা রোজা পালনের বিষয়টি একেবারেই অবান্তর বলেই ফতোয়া দিয়েছেন। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং আরও কয়েক জায়গায় কিছু লোক ঘাপটি মেরে আছে যারা আসলে সব সময় সউদী আরবের সাথে ঈদ বা রোজা পালনের লক্ষ্যে কু মন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের কারণেই কিছু বলা প্রয়োজন।

দর্শকঃ যারা সউদী আরবের সাথে ঈদ বা রোজা পালন করতে চায় তাদের কি দলীল? আর এতে তাদের কি লাভ?

চাঁদ গবেষকঃ আজ অবধি তারা এর স্বপক্ষে না পেরেছে বিজ্ঞান সম্মত কোন যুক্তি দিতে না পেরেছে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফ থেকে দলীল দিতে। আমরা এক এক করে অনেক গুলো প্রমাণ উপস্থাপন করার চেস্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রথমেই বলবো প্রতি মাসে বাঁকা চাঁদ একই দেশ থেকে দেখা যাবে কিনা সে বিষয়ে।

মার্চের ২১ তারিখ এবং সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ যখন সূর্য বিষুব রেখার উপরে অবস্থান করে তখন দিন রাত্রি সমান হয়। এরপর থেকে সূর্য ২৩.৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উত্তরে অথবা দক্ষিণে সরে আসে। ২১শে জুন, উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর অবস্থান করে এবং ডিসেম্বরের ২২ তারিখ মধ্যাহ্নে দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্য-মকর ক্রান্তির উপর অবস্থান করে। সে কারণেই বলা হয় সূর্য দৃষ্টিগোচর হয় কম-বেশী উত্তর-দক্ষিণ দ্রাঘিমাংশ বরাবর। কিন্তু চাঁদ দৃশ্যমান হতে পারে যে কোন স্থান থেকে এবং পশ্চিমে অধিবৃত্ত আকারে বিস্তৃত হতে থাকে। মার্চে উত্তরে (যেমন- মঙ্গোলিয়া) বাঁকা চাঁদ দেখা যেতে পারে এবং আগস্টের মধ্যে তা সরে গিয়ে সুদূর দক্ষিণে মাদাগাস্কার, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি স্থানে প্রথম দেখা যেতে পারে।

সুতরাং একটি দেশ (যার দ্রাঘিমাংশ, অক্ষাংশ নির্দিষ্ট) কখনো সব সময় প্রথমে চাঁদ দেখতে পারবে না। আমরা জানি, সূর্যের সাপেক্ষে পৃথিবীর চারিদিকে চাঁদের একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে গড়ে ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট প্রায়। চাঁদের অসমগতির জন্য এই চন্দ্র মাসের সময় ১২ ঘণ্টা কম বা বেশী হতে পারে। যদি পৃথিবীর নিজস্ব কোন ঘূর্ণন না থাকতো অর্থাৎ পৃথিবী স্থির হতো এবং পৃথিবী যদি কোন কক্ষপথে আবর্তিত না হতো, যদি সে স্থির পৃথিবীর চতুর্দিকে চাঁদ কোন উপবৃত্তাকার পথে না ঘুরে একটা নির্দিষ্ট গতি নিয়ে সঠিক বৃত্তাকার পথে ঘুরতো এবং যদি চাঁদের ঘূর্ণন সময় যদি ঠিক ২৯ দিনে পূর্ণ হতো তাহলে পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে প্রতি মাসে চাঁদকে দেখা যেতো। কিন্তু যেহেতু পৃথিবী তার কক্ষে ঘুরছে তাও আবার বাঁকা হয়ে, আবার সূর্যের চতুর্দিকে একটি উপবৃত্তাকার পথে ঘুরছে এছাড়া চাঁদ নিজেও পৃথিবীর চতুর্দিকে একটি উপবৃত্তাকার পথে ঘুরছে এবং এই চাঁদ-পৃথিবী কখনো সূর্যের কাছে থাকে কখনো দূরে সরে যায় এই সকল বিষয়গুলোর জন্য পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট দেশ থেকে কখনো প্রতি মাসে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়।

তাহলে এটা নিশ্চিত সউদী আরব থেকে সব সময় প্রথম চাঁদ দেখা যাবে না। যায় না।