আন্তর্জাতিক মাজলিসু রুইয়াতিল হিলাল
৩৭ ছফর শরীফ ১৪৪৪ হিজরী

দর্শকঃ আপনি ইত্তেহাদুল মাতলার পক্ষে দলীল দিতে গিয়ে ৫৪০ মাইলের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা বিজ্ঞান দিয়ে। যদিও আপনি ফতোয়ায়ে শামী থেকে ৫৪০ মাইলের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কিন্তু ৫৪০ মাইলের পক্ষে সম্মানিত শরীয়ত উনার আরও দলীল দিলে ভাল হত।

চাঁদ গবেষকঃ এক্ষেত্রে আপনাকে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার থেকে দলীল দেয়া যেতে পারে তবে তার পূর্বে উদয়স্থলের বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে । “ওহাদাতাল মাতলা” অর্থাৎ এক উদয়স্থলের পক্ষে দলীল দিতে গিয়ে ওহাবীরা যে সকল হাদিস শরীফ উপস্থাপন করে তা মূলত না বুঝেই করে। কিছুটা দূরবর্তী স্থানে চাঁদ দেখা গেলেই তা সারা বিশ্বের জন্য যেমন প্রযোজ্য হবে না একইভাবে অনেক দুরের স্থানে দেখা যাওয়া চাঁদ অনুযায়ী আবার সকল স্থানে মাস শুরু করা যাবে না। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বলতে হয় উদয়স্থলের সীমানার বিষয়টি আমাদের বোঝা প্রয়োজন।

উদয়স্থলের পার্থক্য গ্রহণযোগ্য নয়:
পঞ্চগড় উদয়স্থলে চাঁদ দৃশ্যমান হয়েছে-ঢাকার উদয়স্থলে চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি- কক্সবাজার উদয়স্থলে চাঁদ দৃশ্যমান হয়েছে
তবে কি ঢাকা আরবী মাস শুরু করবে না?
উত্তর হচ্ছে করবে। এই ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি ঢাকার সঙ্গে কক্সবাজার বা ঢাকার সঙ্গে পঞ্চগড়ের উদয়স্থলের পার্থক্য গ্রহণযোগ্য নয়।

উদয়স্থলের পার্থক্য গ্রহণযোগ্যঃ
সউদি আরবের উদয়স্থলে চাঁদ দৃশ্যমান হয়েছে-বাংলাদেশের উদয়স্থলে চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি-মালয়েশিয়ার উদয়স্থলে চাঁদ দৃশ্যমান হয়েছে।
বাংলাদেশ কি তবে আরবী মাস শুরু করবে না?
উত্তর হচ্ছে করবে না। কেননা বাংলাদেশে দেখা যায়নি।

এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদয়স্থলের সঙ্গে মালয়েশিয়ার উদয়স্থল এবং সউদী আরবের উদয়স্থলের পার্থক্য গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। কেন এখানে মালয়েশিয়ার দেখা বা সউদী আরবের দেখা বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না তা বুঝতে হলে হাদিস শরীফ বুঝতে হবে। নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে উদয়স্থলের পার্থক্য গ্রহণযোগ্য নয় আবার নির্দিষ্ট দূরত্বের পর উদয়স্থলের পার্থক্য গ্রহণযোগ্য। আগামীতে এ নিয়ে আমরা আরও বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।